বীমা খাতে অনিয়ম, বিশৃঙ্খলা ও দুর্নীতি গভীরে শিকড় গেড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, গ্রাহকের বৈধ দাবি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে। প্রয়োজনে গ্রাহকের পাওনা পরিশোধে বীমা কোম্পানির সম্পদ বিক্রি করতে হবে। দাবি পরিশোধ না করে কোনো কোম্পানিকে জমি বা অন্য সম্পদ কেনা, বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ কিংবা সরকারি সিকিউরিটিজে অর্থ রাখার সুযোগ দেওয়া হবে না।
গত সোমবার রাজধানীতে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) কার্যালয় পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন অর্থমন্ত্রী। একইদিন কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে আইডিআরএ চেয়ারম্যান মীর নাদিয়া নিভিন জানান, দেশের বীমা খাতে গ্রাহকদের সাত হাজার কোটি টাকার দাবি বকেয়া রয়েছে। বর্তমানে সামগ্রিকভাবে দাবি নিষ্পত্তির হার ৫৭ শতাংশ। এ হার ৭৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে তাদের।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, মানুষ নিজের কষ্টার্জিত অর্থ দিয়ে ভবিষ্যতের নিরাপত্তার জন্য বীমা করেন। অথচ অনেক কোম্পানি গ্রাহকের দাবি পরিশোধ করছে না। বর্তমানে প্রায় ৫৭ শতাংশ বীমা দাবি অনিষ্পন্ন। অর্থাৎ ১০০টি দাবির মধ্যে ৫৭টিই নিষ্পত্তি হয়নি। এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
মন্ত্রী বলেন, ‘যে মানুষ নিরাপত্তার জন্য ইন্স্যুরেন্স করে, নিজের কষ্টের অর্জিত টাকা থেকে দেয়, তাঁকে আপনি কীভাবে সেই টাকা থেকে বঞ্চিত করবেন?’ ইতোমধ্যে কিছু দাবি পরিশোধ করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আইডিআরএর চেয়ারম্যান নিজেও একটি দাবি পরিশোধের উদ্যোগ নিয়েছেন, যা মূলত একটি দৃষ্টান্ত স্থাপনের জন্য। তবে দাবি পরিশোধ করা নিয়ন্ত্রক সংস্থার চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নয়; সংশ্লিষ্ট বীমা কোম্পানিকেই গ্রাহকের পাওনা পরিশোধ করতে হবে।

