উচ্চ আদালতের দীর্ঘ দিনের একটি বিরোধ মাত্র ৩৫ দিনে নিষ্পত্তি হয়েছে। অল্প সময়ে সল্প খরচে ব্যয়ে বিচারিক সুবিধা পাওয়ায় মামলার উভয় পক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তেজখালী ইউনিয়নের বিষ্ণুরামপুর মধ্যপাড়ার বাসিন্দা মো. জাহাঙ্গীর মোল্লা ও একই বাড়ির শাহ আলম পরস্পর চাচাতো ভাই। বাড়িতে চলাচলের জায়গা ও টয়লেট নির্মাণকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে তর্ক-বিতর্কের একপর্যায়ে ঝগড়া ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে বিষয়টি গ্রামের মাতব্বরদের জানানো হলে গ্রাম্য সালিসের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হয়।
পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে আদালতে মামলা হলে দীর্ঘ সময় ধরে এর কার্যক্রম চলে। পরে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নির্দেশে মামলাটি বিচার ও নিষ্পত্তির জন্য বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ১ নং তেজখালী ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালতে আসে। গ্রাম আদালতের চেয়ারম্যান আমিরুল ইসলাম নয়ন, পক্ষ গনের মনোনীত সদস্যদের নিয়ে মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা করেন।
মাত্র ৩৫ দিনের মধ্যে মামলা।নিষ্পত্তি করা হয় এবং পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন পাঠানো হয়। উক্ত মামলাটির গ্রাম আদালতের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ও বার্ষিক প্রতিবেদনের জন্য বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ তৃতীয় পর্যায় প্রকল্পের মনিটরিং অ্যান্ড লেসন লার্নিং অফিসার আশুতোষ মজুমদার বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) তেজখালী ইউনিয়ন পরিষদ পরিদর্শন করেন। তিনি ইউনিয়ন পরিষদের সকল ইউপি সদস্য, সংরক্ষিত মহিলা সদস্য, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি, শিক্ষক, ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। পরে গ্রাম আদালতের বিচারিক কার্যক্রম কীভাবে পরিচালিত হয়, তা নিয়ে একটি ডেমো সেশন সরাসরি পর্যবেক্ষণ করেন পরিদর্শক দল।
এরপর পরিদর্শক দল গ্রাম আদালতে বিচারিক সুবিধা পাওয়া আবেদনকারী মো. জাহাঙ্গীর মোল্লা ও প্রতিবাদী শাহ আলমের বাড়িতে গিয়ে সরেজমিনে তাদের বক্তব্য শোনেন। এ সময় উভয় পক্ষ গ্রাম আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। উভয় পক্ষ জানান, দীর্ঘদিনের আইনি জটিলতার তুলনায় গ্রাম আদালতের মাধ্যমে স্বল্প সময়ে বিরোধের নিষ্পত্তি হওয়ায় তাদের সময় ও আর্থিক ব্যয় দুটোই কমেছে। দ্রুত বিচারিক সুবিধা পাওয়ায় তারা সন্তোষ প্রকাশ করেন।

