আন্তর্জাতিক কল সেবায় ফার্স্টকমের কার্যক্রমে নতুন সম্ভাবনা

আন্তর্জাতিক কল সেবায় ফার্স্টকমের কার্যক্রমে নতুন সম্ভাবনা

বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ খাতে কার্যক্রম পরিচালনার কাঠামোয় নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে। গত ৩০ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) আন্তর্জাতিক গেটওয়ে (আইজিডব্লিউ) অপারেটরদের জন্য কমন ইন্টারন্যাশনাল পয়েন্টের (সিআইপি) পাশাপাশি পৃথক ইন্টার-অপারেটর এক্সচেঞ্জ (আইওএক্স) সুইচ স্থাপনের সুযোগ দিয়ে নির্দেশনা জারি করেছে। সংশ্লিষ্ট খাতের জন্য এই সিদ্ধান্ত প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি, কার্যক্রমে নমনীয়তা এবং সেবার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করার নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে।

নতুন নির্দেশনায় অপারেটররা নিজস্ব অবকাঠামোর মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ পাবেন। এতে সেবার মান উন্নয়ন, প্রযুক্তিগত বিনিয়োগ এবং পরিচালনাগত দক্ষতা বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বিকল্প প্রযুক্তিগত কাঠামো গড়ে তোলার পথও উন্মুক্ত হয়েছে।

এই পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে আলোচনায় এসেছে আন্তর্জাতিক কল সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ফার্স্টকম। প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম নিয়ে অতীতে বকেয়া ও নিয়ন্ত্রক বিধিনিষেধসংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশ্ন উঠেছে। তবে নতুন নির্দেশনার ফলে আইজিডব্লিউ খাতে কার্যক্রম পরিচালনার কাঠামো নিয়ে নতুন করে আলোচনার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

বিটিআরসির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) এমদাদুল বারী জানিয়েছেন, কমিশন কোনো নির্দিষ্ট কোম্পানিকে সুবিধা দেওয়ার জন্য নির্দেশনা জারি করেনি। প্রচলিত আইন ও বিধিবিধান অনুসারেই আইজিডব্লিউ অপারেটরদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কমিশনের এই বক্তব্য নির্দেশনাটিকে কোনো একক প্রতিষ্ঠানের পরিবর্তে সামগ্রিক খাতের নীতিগত পরিবর্তন হিসেবে বিবেচনার ভিত্তি দেয়।

ফার্স্টকমের বকেয়া ও ব্যাংক গ্যারান্টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট অপারেটরদের মধ্যে আগে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছিল। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির কাছে অন্য অপারেটরদের প্রায় আড়াই কোটি টাকা পাওনা রয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য, পাওনার বর্তমান অবস্থা এবং নিষ্পত্তির অগ্রগতি স্পষ্ট হওয়া জরুরি। একই সঙ্গে ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে সব প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রযোজ্য নিয়মের ধারাবাহিক প্রয়োগও গুরুত্বপূর্ণ।

বিটিআরসি ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ফার্স্টকমের কার্যক্রম বন্ধ করেছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে প্রতিষ্ঠানটির ওপর আরোপিত ১০০ শতাংশ অপারেশনাল ক্যাপ প্রত্যাহার এবং ২০২৬ সালের মার্চে পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক কার্যক্রমের অনুমোদনের বিষয়গুলো নিয়েও আলোচনা হয়েছে। এসব সিদ্ধান্তের পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট বুঝতে সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা ও নথি পর্যালোচনা প্রয়োজন।

আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ খাতে টেকসই প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করতে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, আর্থিক দায় পরিশোধ এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার স্বচ্ছতা—তিনটি বিষয়ই গুরুত্বপূর্ণ। ফার্স্টকমসহ সব অপারেটর যদি প্রযোজ্য বিধিবিধান মেনে কার্যক্রম পরিচালনা করে, তাহলে এই খাতে বিনিয়োগ, সেবার মান এবং বাজারের স্থিতিশীলতা বাড়ানোর সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

এস আলমের প্রতিষ্ঠান ফার্স্ট কমিউনিকেশনস লিমিটেড (ফার্স্টকম বিডি) কে পুনরায় বাণিজ্যিক কার্যক্রম চালানোর অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। গত ১৬ মার্চ ২০২৬, ফার্স্টকমকে পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক কার্যক্রম চালুর অনুমোদন দিয়েছে বিটিআরসি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে একই বছরের ৩ ডিসেম্বর ফাস্টকম বিডির ওপর ১০০ শতাংশ সেবা বন্ধের নির্দেশ (অপারেশনাল ক্যাপ) জারি করে বিটিআরসি। ফার্স্টকম কোম্পানিতে এস আলমের ৭৭ শতাংশের বেশি শেয়ার রয়েছে। বাকি শেয়ারের মালিকানা সাবেক মন্ত্রী জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু এবং তার পরিবারের।