কেন দোয়েল বাংলাদেশের জাতীয় পাখি

কেন দোয়েল বাংলাদেশের জাতীয় পাখি

ভোরের নরম আলোয় কোথাও থেকে ভেসে আসে মিষ্টি এক ডাক। শহরের ব্যস্ততা কিংবা গ্রামের নির্জনতা—দোয়েলের এই সুর বাংলার প্রকৃতির সঙ্গে মিশে আছে বহুদিন ধরে। কালো-সাদা রঙের ছোট্ট এই পাখিটিই বাংলাদেশের জাতীয় পাখি। কিন্তু প্রশ্ন হলো, রঙিন আর বৈচিত্র্যময় অসংখ্য পাখির ভিড়ে দোয়েল কেন পেল এই মর্যাদা?

স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের জাতীয় প্রতীকগুলো নির্ধারণের সময় দোয়েলকে বেছে নেওয়ার পেছনে ছিল এর পরিচিতি, স্বভাব ও সাংস্কৃতিক উপস্থিতি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক কাজী জাকের হোসেন দোয়েলকে জাতীয় পাখি করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন বলে উল্লেখ পাওয়া যায়।

দোয়েলের বৈজ্ঞানিক নাম Copsychus saularis। কালো-সাদা পালক, সরু দেহ আর খাড়া লেজ—সব মিলিয়ে তাকে সহজেই চেনা যায়। তবে চেহারার চেয়ে তার সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য গান। দোয়েল বিভিন্ন সুরে ডাকতে পারে, এমনকি কখনো কখনো অন্য পাখির ডাকও অনুকরণ করে। ভোরের নিস্তব্ধতায় তার সুর প্রকৃতিকে যেন আলাদা মাত্রা দেয়।

শুধু সৌন্দর্য বা গান নয়, দোয়েলের স্বভাবেও আছে বিশেষত্ব। পোকামাকড় ও শুঁয়োপোকা খেয়ে সে প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় ভূমিকা রাখে। তাই কৃষির জন্যও এ পাখি উপকারী। সাধারণত গাছের কোটর, দেয়ালের ফাঁক কিংবা নিরাপদ ছোট জায়গায় বাসা বানায় এবং বাবা-মা মিলে বাচ্চাদের যত্ন নেয়।

কিন্তু জাতীয় পাখি হিসেবে দোয়েলের ভবিষ্যৎ কি নিরাপদ? নগরায়ণের কারণে গাছপালা ও খোলা জায়গা কমে যাওয়ায় তার আবাসস্থল সংকুচিত হচ্ছে। অন্যদিকে কীটনাশকের অতিরিক্ত ব্যবহারে কমছে পোকামাকড়—দোয়েলের খাদ্যও।

তাই দোয়েলকে জাতীয় পাখি হিসেবে সম্মান জানানো শুধু প্রতীক ব্যবহারে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। তার জন্য গাছ, সবুজ জায়গা ও নিরাপদ পরিবেশও নিশ্চিত করতে হবে। কারণ দোয়েলকে বাঁচানো মানে শুধু একটি পাখিকে বাঁচানো নয়; বাংলাদেশের প্রকৃতি ও আমাদের নিজস্ব পরিচয়ের একটি অংশকে বাঁচিয়ে রাখা।